ধামরাইয়ে ডাকাতি মামলার আলামত বিক্রীর অভিযোগ উঠেছে পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে

ধামরাইয়ে ডাকাতি মামলার আলামত বিক্রীর অভিযোগ উঠেছে পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে।।

 আলোচিত ডেস্ক :

ধামরাইয়ে আলোচিত ডাকাতি মামলায় ব্যবহারের অভিযোগে পুলিশের উদ্ধার করা তিনটি ইজিবাইক গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন-চার্জ পুলিশ পরিদর্শক একেএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জানতে চাওয়ায় ফাঁড়িতেই উদ্ধারকারী এএসআইয়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন আইসি ফজলুল।

বুধবার সকালে ( ২৭ নভেম্বর)  কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টম্বর উপজেলার জালসা গ্রামে তিন বাড়ি দুর্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে রমজান আলী নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। ডাকাতরা আশেপাশের তিনটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণংলকার লুট করে পালিয়ে যায়। পরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। এঘটনায় ধামরাই থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা হয়। মামলা নং (৩৮)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করে । এছাড়াও আইসি ফজলুল হক জিরানী এলাকায় একটি ইজিবাইকের গ্যারেজ থেকে এএসআই শামীমকে সাথে নিয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত তিনটি ইজিবাইক উদ্ধার করে। ইজিবাইক তিনটি ডাকাতি মামলার আলামত হিসেবে কাওয়ালীপাড়া ফাঁড়িতে রেখে দেয়। তবে গত কয়েকদিন আগে ইজিবাইক তিনটি ফাঁড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। পরে এঘটনায় আজ বুধবার সকালে এএসআই শামীম হোসেন পুলিশ পরির্দশক (আইসি) ফজলুল হকের কাছে জানতে চাইলে তার উপর ক্ষিপ্ত হন আইসি।

ফাঁড়ির অন্য কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, মামলার আলামত ইজিবাইক তিনটি কয়েকদিন পূর্বে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গোপনে বিক্রি করেন পুলিশ পরির্দশক ফজলুল হক।

বুধবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে ওই পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে ডাকাতি মামলার আলামত তিনটি ইজিবাইক পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত সবার সামনেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন এএসআই শামীম ও আইসি ফজলুল হক। একপর্যায়ে ফাঁড়ির সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে এসে তাদের দুইজনকে থামান।

এ বিষয়ে কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মুন্সী মাসুম হোসেন জানান, আইসি স্যার আর শামীম স্যার তিনটি ইজিবাইক জিরানী থেকে উদ্ধার করেছিল। সেগুলো ফাঁড়িতে ছিল ১৫দিন এরপর সেগুলো কি হয়েছে তা আইসি স্যার জানেন।

কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই শামীম হোসেন বলেন, আমি ও আইসি স্যার জালসা ডাকাতি মামলার আসামী এক ডাকাতকে গ্রেফতার করার পর তার স্বীকারক্তি প্রেক্ষিতে জিরানি এলাকার অভিযান চালিয়ে একটি গ্যারেজ থেকে তিনটি ইজিবাইক উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। ১৫-২০ দিন সেগুলো ফাঁড়িতে ছিল এরপর আইসি স্যার তা কি করেছে আমি জানি না। তিনি আরো বলেন,আমি ইজিবাইক তিনটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমার ক্ষিপ্ত হয়। আর বাকিটা আপনারা নিজেরাই দেখেছেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এএসআই শামীম ইজিবাইক বিক্রির বিষয়ে আইসির কাছে জানতে চাইলে ইজিবাইকের কি করা হয়েছে সে বিষয়ে কোন উত্তর না দিয়ে শামিমের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন আইসি স্যার, এসময় সেটা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।

তবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরির্দশক একে এম ফজলুল হক।

এ বিষয়ে জানতে ধামরাই থানার অফিসার ইন-চার্জ দীপক চন্দ্র সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফজলুল হকের সঙ্গে কথা বলে আমি বলতে পারব। এরপর ফোন করলে বলেন, আমি ফাঁড়িতে যাচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে পরে কথা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার এসপি মারুফ হোসেন সরদার জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বিষয়টি দেখবেন।

সাভার

২৭.১১.১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *