ধামরাইয়ে খেলার মাঠ ও বিল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন


ধামরাইয়ে খেলার মাঠ ও বিল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন।।

 নিউজ হাঁট ডেস্ক :

 ধামরাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিল খেলার মাঠ দখলের অভিযোগে এনে  বিল ও খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে মানব বন্ধন ও সমাবেশ করেছে ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সাত গ্রামবাসী।

 শুক্রবার ( ২২ নভেম্বর ) ধামরাই-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলা বাসস্ট্যান্ডে দাড়িয়ে বেনারে, ফেস্টুন নিয়ে হাতে হাত ধরে মানব বন্ধন ও সমাবেশ করেন তারা।

 মানব বন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের মোড়া মৌজার বড় বিল, ছোট বিল, ঘোড়ামারা বিল বিল সংলগ্ন খেলার মাঠে কয়েকশ বিঘা জমি রয়েছে। এসব বিলে যুগযুগ ধরে কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রকৃতির দেওয়া মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এছাড়া বিলের পানি বোরো চাষে সবজি ক্ষেতে সেচের কাজে ব্যবহার করে আসছে এলাকাবাসী।

এসব বিল খেলার মাঠ দখলের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে ধামরাইয়ের শরীফবাগ গ্রামের মৃত তাইজুদ্দিন বেপারীর ছেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান তার সহযোগি মোকছেদ আলী মুকছু, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, হুমায়ন, খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন। গত শনিবার হাবিবুর রহমান তার দলবল নিয়ে ওই জমি দখল করতে যায়। এতে স্থানীয় দক্ষিণ দীঘল গ্রামের আব্দুল কাদের দেওয়ানের ছেলে আব্দুল মান্নানসহ গ্রামের কয়েকজন বাঁধা দেন। এসময় তোপের মুখে পড়ে ফিরে যান সচিব। পরে ওইদিনই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ধামরাই থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ সময় মানব বন্ধন থেকে ক্ষমতাসীন সচিবের হাত থেকে বিল খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে দীঘল গ্রাম, বৈষ্টবদিয়া, মোরারচর, মারুমডালি, মালঞ্চসহ সাতটি গ্রামের সহস্রাধিক গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

 ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ, বিল মাঠ রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিবুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক সোহরাব হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মানসুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক ভান্ডারী, স্থানীয় রবিউল করিম রুবেল, বোরহান উদ্দিন বক্তব্যে রাখেন।

  বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান জানান, বিলের মধ্যে আমার স্ত্রী নাছিমা হাবিবের নামে এস ৬০৬ আর এস ৬২০ দাগের ১২০ শতাংশ জমি জনৈক মৃত ইয়াকুব আলী দেওয়ানের ওয়ারিশগনের কাছ থেকে বছরখানেক আগে বায়নাসূত্রে মালিক হয়ে জমিতে পিলার পুতেছি। আমি কারও জমি দখল করিনি। এলাকার লোকজন খারাপ আচারণ করায় ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের নামে থানায় জিডি করেছি।

 এদিকে ২০১৪ সালে ১১ জুন তৎকালিন ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেহেনা আক্তার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন ধামরাইয়ের মোড়া মৌজার এসএ ৬০৬ আরএস ৬২০ দাগের ২৩৯ শতাংশ জমি বিল শ্রেণি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার ঢাকা এর নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

 

সাভার

২৩.১১.১৯

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *